দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শাহরুখ খানের জনপ্রিয়তার শুরুর সময় বলিউডে আন্ডারওয়ার্ল্ডের যথেষ্ট প্রভাব ছিল। সেই সময়ে চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত তারকাদের প্রায়ই হুমকি দেওয়া হতো। বাদ যাননি শাহরুখ খানও। তবে হুমকির মুখেও কখনো আপস করেননি তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পরিচালক সঞ্জয় গুপ্ত জানিয়েছেন, শাহরুখ বরং স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, ভয় দেখিয়ে তাঁকে দমানো যাবে না।
সঞ্জয় গুপ্ত বলেন, চলচ্চিত্রজগতের একমাত্র শাহরুখই হুমকি পাওয়ার পর স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, কোনো ছবি করবেন না, কোনো অনুষ্ঠানেও যাবেন না। তাঁকে গুলি করতে চাইলে গুলি করার কথাও বলেছিলেন শাহরুখ। সঞ্জয়ের মতে, তাঁর এই সাহসের কারণেই আন্ডারওয়ার্ল্ডের লোকজনও তাঁকে সম্মান করতে শুরু করেছিল। তারা বুঝেছিল, অন্তত একজন মানুষ আছেন, যিনি ভয় পান না।
তবে এর পরও প্রায় তিন বছর কড়া নিরাপত্তা ও পুলিশি পাহারায় থাকতে হয়েছিল শাহরুখকে। বলিউড কেন আন্ডারওয়ার্ল্ডের সহজ নিশানা হয়ে উঠেছিল, সে বিষয়েও এক সাক্ষাৎকারে কথা বলেছিলেন অভিনেতা। প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে শাহরুখ জানিয়েছিলেন, তিনি বহুবার এমন হুমকি পেয়েছেন এবং তিন বছর তাঁকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে থাকতে হয়েছিল।
চিত্রসমালোচক অনুপমা চোপড়া তাঁর লেখা বইয়ে শাহরুখের সঙ্গে আন্ডারওয়ার্ল্ডের বিভিন্ন সংঘাতের কথাও তুলে ধরেছেন। সেখানে আবু সালেম, ছোটা রাজন ও ছোটা শাকীলের মতো গ্যাংস্টারদের সঙ্গে শাহরুখের সমস্যার উল্লেখ রয়েছে।
অনুপমার লেখা অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালে মহেশ ভাটের ‘ডুপ্লিকেট’ ছবিতে কাজ করার সময় থেকেই শাহরুখের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁর জন্য ব্যক্তিগত দেহরক্ষীর ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।
একবার আবু সালেম সরাসরি শাহরুখকে ফোন করেছিলেন বলেও বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ঘনিষ্ঠ এক প্রযোজকের ছবিতে কাজ করতে রাজি না হওয়ায় ফোনে শাহরুখকে গালিগালাজ করেন ওই গ্যাংস্টার। এতে শাহরুখ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং ভয়ও পেয়েছিলেন বলে জানা যায়। তবে সেই পরিস্থিতিতেও ফোনে নিজের সংযম ধরে রেখেছিলেন অভিনেতা।
এমএস/